আরিফ মন্ডল বিশেষ প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্প পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুই ওষুধ ব্যবসায়ীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন জনই আহত হয়ে, স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এঘটনায় পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে আল আমিন ও সেলসম্যান খাদেমুলকে আটক করে শিল্প পুলিশ-১ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
বুধবার বেলা ১টায় আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার মৃধা ফার্মেসীতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-শিল্প পুলিশ-১ এর ইন্টেলিজেন্স এএসআই মাহমুদ হাসান (৩২), আশুলিয়ার কান্দাইল এলাকার আমান উল্লাহ মৃধার ছেলে ঔষধ ব্যবসায়ী আল আমিন মৃধা (২৮) ও তার সেলসম্যান খাদেমুল ইসলাম (২২)।
এ ব্যাপারে আল আমিনের বাবা আমান উল্লাহ জানান, দুপুরে সিভিল পোশাকে এএসআই মাহমুদ ‘অ্যাবসল’ নামে একটি ক্রীম নিয়ে জামগড়া তার ছেলের ফার্মেসীতে যান। পরে ফার্মেসীর সেলসম্যান খাদেমুলের কাছে ক্রীমটির কার্যকারিতা জানতে চান ওই পুলিশ সদস্য। কিন্তু ডাক্তার ছাড়া এর কার্যকারিতা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবে না বলে জানায় ফার্মেসীর সেলসম্যান খাদেমুল। এতে এএসআই মাহমুদ ক্ষিপ্ত হয়ে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন ও এক পর্যায়ে খাদেমুলকে ঘুষি মারেন।
তিনি আরো জানান, এতে তার ছেলে আল আমিন বাঁধা দিলে তাকেও কিল ঘুষি মারতে থাকেন ওই পুলিশ সদস্য। এসময় আল আমিন দোকানে থাকা লোহার রড দিয়ে ওই এএসআইকে পিটুনি দেয়। এতে এএসআই মাহমুদ হাসানের হাতের কব্জিতে ব্যথা পান। পরে পুলিশ সদস্য মাহমুদের খবরে ২/৩ গাড়ি শিল্প পুলিশ ফার্মেসীতে গিয়ে খাদেমুল ও আল আমিনকে মারধর করে এবং আটক করে শিল্প পুলিশের শ্রীপুর হেড কোয়ার্টারে নিয়ে যায়।
প্রতিবেশি ব্যবসায়ীরা জানান, পুলিশের এসআই মাহমুদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের ২/৩টি গাড়ি তে এসে দোকানে হামলা চালায় এবং আল আমিন ও খাদেমুলকে ব্যাপক মারধর করে । তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে সেখান থেকে তাদের আটক করে নিয়ে যায় শিল্প পুলিশ।
এব্যাপারে এএসআই মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, তিনি এসপি স্যারের সামনে রয়েছেন। তাই এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।
এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শ্রীপুর হেডকোয়ার্টাসে গেলে সাংবাদিক পরিচয়ে কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ সুপারের অনুমতি নেই বলে সাংবাদিকদের জানান ফটকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
তবে বিষয়ে মুঠোফোনে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সানা সামিনুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।