আবু সাইদ বিশেষ প্রতিনিধি।। আশুলিয়ায় দুরুল হুদাকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মতিউর রহমান মতিন-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পরকীয়া প্রেমিক-কে সঙ্গে নিয়ে নিজের স্বামী দুরুল হুদাকে হত্যা করেছিলেন স্ত্রী মেহেরুন্নেসা। অভিযুক্ত মেহেরুন্নেসা গ্রেপ্তার হলেও পলাতক ছিলেন প্রেমিক মতিউর রহমান মতিন (২৫)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন পর র্যাব-৪ ও ৫ এর যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৪ সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।
এর আগে রবিবার (১০ ডিসেম্বর) রাত্রে নওগাঁ জেলায় অভিযান চালিয়ে মতিউর রহমান মতিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মতিনের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়। আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
নিহত দুরুল হুদা (৪২) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফতেহপুর গ্রামের বাহের আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ওরফে খাদিজাকে (২৮) নিয়ে আশুলিয়ায় বসবাস করে আসছিলেন। একটি কীটনাশক কারখানার প্যাকিংম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পলাশবাড়ি বাতানটেক আলম মিয়ার মালিকানাধীন বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
নিহতের পরিবার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করে।র্যাব জানায়, মেহেরুন্নেসা ও মতিউর রহমান একই পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বামী দুরুল হুদা এ বিষয়ে য় জানতে পারলে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। এ কারণে প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন স্ত্রী খাদিজা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ নভেম্বর রাতে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন খাদিজা।
পরে প্রেমিককে ঘরে ডেকে নেন। এরপর দুরুল হুদার হাত-পা বেঁধে মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন প্রেমিক। পরদিন ২০ নভেম্বর দুপুরে কারখানা থেকে বাসায় এসে স্বামীর মরদেহ দেখে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে নাটক সাজান স্ত্রী। সন্দেহ হওয়ায় পরদিন স্ত্রী খাদিজাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে র্যাবের কাছে সব স্বীকার করেন খাদিজা। এরপর থেকে মতিউর রহমান মতিন আত্মগোপনে ছিলেন।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক বলেন,এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মতিউর রহমান মতিন-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পরকীয়ার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড। আমরা আসামি-কে নিয়ে র্যাব-৫ (রাজশাহী) থেকে আশুলিয়া থানায় ফিরছি। মতিন-কে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে। এর আগে নিহতের স্ত্রী গ্রেপ্তার খাদিজা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।